প্রথম প্রান্তিকেই দেশে মোবাইলফোন উৎপাদন বেড়েছে আড়াইগুণ

২৯ মে, ২০১৯ ১৮:১৮  
গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন বেড়েছে আড়াইগুণ। উৎপাদিত বাজেট বান্ধব এই ফোনগুলোই মেটাচ্ছে গ্রাহকের মোট চাহিদার এক চতুর্থাংশ। দেশে উৎপাদিত ফোনের মান, চাহিদা ও মূল্যসংবেদনশীলতায় বছর শেষে এই হার এক তৃতীয়াংশে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টার। সূত্রমতে, প্রতি মাসে নংরসিংদীতে অবস্থিত কারখানায় দেড় লাখ মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে স্যামসাং। এফডিএল-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদন শুরু করা একমাত্র আন্তর্জাতিক এই ব্র্যান্ডটির পাশাপাশি সবার আগে দেশে উৎপাদন শুরু করা ওয়ালটন গাজীপুরের কারখানায় মাসে এক লাখ ২০ হাজার পিস মোবাইল উৎপাদন করছে। এছাড়াও ট্রানশান বাংলাদেশ মাসে ২ লাখ আইটেল মোবাইল উৎপাদন করছে গাজীপুরের ভোগরায়। আর সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত করাখানায় মাসে এক লাখ মোবাইল উৎপাদন করছে সিম্ফনি। বছরের শুরুর দিকে উৎপাদনে যাওয়া ফাইভ স্টার মাসে ১৫ হাজারের মতো হ্যান্ডফোন উৎপাদন করছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরেই উই ও দোয়েল উৎপাদনে আসছে। এছাড়া জেডটিই, উইনস্টার, লাভা, অপো দেশেই মোবাইলফোন উৎপাদন করতে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাবে, দেশে বর্তমানে বছরে ৩ কোটি মোবাইল ফোনের চাহিদা রয়েছে। সে হিসেবে দেশে প্রতিমাসে মোবাইলের চাহিদা রয়েছে ২৫ লাখের মতো। অন্যদিকে ওয়ালটন, স্যামসাং, আইটেল, সিম্ফনি ও ফাইভস্টার মিলিয়ে দেশে মাসে মোট উৎপাদিত মোবাইলফোনের পরিমাণ কমপক্ষে সাড়ে ৫ লাখ। সে হিসাবে, মোট চাহিদার অন্তত এক চতুর্থাংশ মেটাচ্ছে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন। অথচ,বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী,গত বছরে এই হার ছিলো ৮ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই এই হার ১৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরেই এই হার ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের এই প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে মন্ত্রী ডিজিবাংলা-কে বলেন, এই প্রবৃদ্ধি সঠিক সময়ে নেয়া সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সুফল। সরকারের প্রণোদনা গ্রহণ করে আগামীতে আরো নতুন নতুন কোম্পানি উৎপাদনে আসছে। আশা করছি শিগগিরি এই হার ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, গত মাসে উৎপাদকরা আমার কাছে এসে জানিয়েছিলো দেশের মোট চাহিদার ২২ শতাংশ মোবাইল এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। বছর শেষে এই হার আরো বাড়বে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগামীতে বাংলাদেশে বিদেশে উৎপাদিত মোবাইল সুবিধা করতে পারবে না। ইতিমধ্যে। আমরা এখানে ফিচারফোন, লো ও মিড রেঞ্জের স্মার্টফোন উৎপাদনে বাজার সফলতা পেয়েছি। স্থানীয় উৎপাদকেরাই এখানে বেশি সুবিধা করবে। তিনি বলেন, আমার মূল্যায়ণ অনুযায়ী, সামনের দিনগুলিতে হুয়ায়ে ছাড়া অন্য কোনো ব্র্যান্ড বাংলাদেশের বাজারে সুবিধা করতে পারবে না। সুবিধা করতে হলে এদেশে উৎপাদন করতে হবে। এছাড়া হুয়াওয়ে ফোন নিয়ে এখন গ্রাহক পর্যায়ে ভীতি তৈরি হওয়ায় এখানটাদে দেশী ফোনের রাজত্বই বাড়বে। দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন বিষয়ে বিএমপিআইএ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন বলেন, মান ও মূল্যসংবেদনশীলতায় দেশে উৎপাদিত ফোনের বাজার বাড়ছে। গত বছর শুরুতে ৮ শতাংশ বাজার দখল করলেও চলতি বছরের শুরুতে এই হার ১৪ শতাংশের মতো বেড়ে ২২ শাতাংশে উন্নীত হয়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে এবং আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো উৎপাদনে যোগ দিলে এই হার আরো বাড়বে।